করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিধ্বস্ত বিশ্বে লকডাউন পরবর্তীকালীন সময়ে বাংলাদেশে ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক হুণ্ডি কারবারি ও স্বর্ণ চোরাচালানকারী সিন্ডিকেট। লকডাউন পরবর্তী পরিস্থিতিতে মোটামুটি সিঁথিল বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সীমান্ত এলাকা ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোও যাত্রী পরিবহনে সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগেই ফের সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় হয়ে উঠেছে এই আন্তর্জাতিক হুন্ডি কারবারি ও স্বর্ণ চোরাচালানকারী সিন্ডিকেটটি। সম্প্রতি বাংলাদেশে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের গডফাদার গোল্ডেন মনির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হলেও থেমে নেই এসকল কার্যক্রম।
সম্প্রতি আমদানীনীতি ও শুল্ক এড়াতে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আমদানিকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন সময়ে কাষ্টমস কর্মকর্তাদের দ্বারা জব্দ ও আটকৃত বেওয়ারিশ ৪০০ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ টি সিন্দুক ভর্তি ১৫ মন স্বর্ণের কোনো দাবিদার না থাকায় অবশেষে সেগুলির ঠাঁই হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারে। আসলে এশিয়ার ছোট্ট এই দেশটিতে এই বেওয়ারিশ বিপুল পরিমান স্বর্ণের মালিক কারা? তাদের মুখোশ কি কোনোদিনই উন্মোচিত হবে না? অবশ্যই হবে।
সেলক্ষ্যেই বিষয়টিকে ঘিরে অনুসন্ধানকালে এধরনের একটি সক্রিয় আন্তর্জাতিক হুন্ডি কারবারি ও স্বর্ণ চোরাচালানকারী সিন্ডিকেটের সক্রিয় অবস্থান মিলেছে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষীর ইউনিয়নের নওখন্ডা গ্রামে।
মুকসুদপুরের নওখন্ডা গ্রামের কে বা কারাই এত বড় সুবিশাল সিন্ডিকেটকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন? এ প্রশ্নই হয়তো ঘুরপাক খাচ্ছে পাঠকদের মনে?
সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত বিষয়ে মকসুদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন নওখন্ডা গ্রামের মামুন শিকদার নামে এক যুবক। জিডিতে ফরিদ আহমেদ মিনা নামে এক ব্যাক্তি ও তার তিন ভাইকে অভিযুক্ত করে জিডির বাদী মামুন শিকদার দাবি করেন,তাকে ঢাকায় ভালো বেতনে চাকুরী দেয়ার কথা বলে ফরিদ আহমেদ মিনা তাকে দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারে হুন্ডি ব্যবসায় তাকে ব্যবহার করেন। পরে সেটি বুঝতে পেরে মামুন চাকুরী ছেড়ে দিতে চাইলে ফরিদ আহমেদ মিনা ও তার ভাইয়েরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। মকসুদপুর থানার জিডি নম্বর-২৮৫।
জিডির সূত্র ধরে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানকালে বেড়িয়ে আসে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে। এসংক্রান্ত প্রচুর পরিমানে তথ্য প্রমান এসেছে এই অনুসন্ধানী দলের হাতে। বেড়িয়ে এসেছে রহস্যে ঘেরা একটি নাম 'শেখ রনি আহমেদ'।
নওখন্ডা গ্রামের সাধারণ কৃষক আয়নাল শেখের ছেলে বাদল। শেখ রনি আহমেদ ওরফে বাদল শেখ ওরফে এবাদুল শেখ এই তিনটি নামই একই ব্যাক্তির। তিনিই মূলত আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী সিন্ডিকেট ও হুন্ডি ব্যবসায়ী চক্রের মূল হোতা।
শেখ রনি আহমেদের নেতৃত্বে গোপালগঞ্জের মকসুদপুরের নওখন্ডা গ্রামসহ আশপাশের অজপাড়াগাঁয়ের শিক্ষিত বেকার যুবক,যুবতী ও গোপালগঞ্জ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার প্রবাসীদেরকে সুসংগঠিত করে এবং মকসুদপুর ও গোপালগঞ্জের কিছু হাই প্রফাইল রাজনৈতিক নেতা ও ক্ষমতাসীন দলের একজন সাংসদের ছত্রছায়াতে এসকল অপকর্মে লিপ্ত সিন্ডিকেটটি। অজ্ঞাত কারনে প্রশাসনের ভুমিকাও রয়েছে নিরব। প্রশাসনের পাশাপাশি কিছু অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ যোগসাজশ রয়েছে এই সুবিশাল সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক হুণ্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানকারী সন্ডিকেটটির নিয়ন্ত্রণে। যার বদৌলতে শেখ রনি আহমেদ একজন ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ী থেকে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই হয়ে ওঠেন শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক।
এবিষয়ে জানতে চাইলে মকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর মিয়া বলেন, জিডিটির তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসারের সাথে কথা বললেই আপডেট জানা যাবে। পরে মকসুদপুর থানার এস.আই আব্দুস সালামের মুঠোফোনে ফোন করে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে তিনি কোনো সাংবাদিককে তথ্য দিবেন না বলে জানান।
কে এই রনি আহমেদ? কে-ই বা এই ফরিদ আহমেদ মিনা? হ্যা। ফুটপাতের একজন সামান্য ফল ব্যবসায়ী বা ট্যাক্সিচালক থেকে কিভাবেই বা এতো বড় হুন্ডি ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী সিন্ডিকেট গড়ে তুললেন? এসংক্রান্তে প্রচুর পরিমানে তথ্য-প্রমান এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিশাল এই আন্তর্জাতিক হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের গডফাদার ও খলনায়কদের সুবিশাল অবৈধ সম্রাজ্যের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।